• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২০ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
ভোটের দিনে লিফলেট বিতরণের দায়ে জামায়াত নেতার অর্থদন্ড নীলসাগর ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস: স্ট্রোকের ঝুঁকি, রিহ্যাবের সংকট ও পুনর্বাসনে সচেতনতার আহ্বান তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার হত্যা মামলায় মাগুরার সাবেক ওসি ও এসআই জেলহাজতে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ৯ কর্মকর্তা প্রত্যাহার সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার রানীরবন্দরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী নিহত “ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি

ডিমলায় নদী ভাঙ্গনে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধের উপক্রম

Picture from nilphamari 29-07-2016-1,liliবিশেষ প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডিমলায় বন্যা ও বন্যা পরবর্তী তিস্তা নদীর ভাঙ্গনে একটি ইউনিয়নের সবকিছুই বিলিন হয়ে গেছে। বিশেষ করে শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে ওই ইউনিয়নটিতে।

এবারের বন্যায় সর্বনাশী তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় ডিমলা উপজেলার তিস্তা নদী বেষ্টিত টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের ৬টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি মাধ্যমিক ও ১টি কিন্ডার গার্ডেন বিদ্যালয় বন্যা ও ভাঙ্গনের কবলে পরে ধ্বংস হয়ে গেছে। ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলীন না হলেও দীর্ঘদিন ধরে পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এছাড়া ওই ইউনিয়নের রাস্তাঘাট পুল কালভার্ট বিধ্বস্থ হয়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ  রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, টেপাখড়িবাড়ীর ৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্যার কোমর পানিতে তলিয়ে ও ভাঙ্গনের কারনে বিদ্যালয় গুলির বেশীরভাগ অংশ নদীগর্ভে বিলীন  হয়ে গেছে। যার কারনে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে পারছেন না। এর ফলে তাদের শিক্ষা জীবন হয়ে পড়ছে ব্যাহত। জেলার ডিমলা উপজেলার চরখড়িবাড়ী মধ্য সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরখড়িবাড়ী বাবুপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, জিঞ্জিরপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, টেপাখড়িবাড়ী ২নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্বখড়িবাড়ী প্রাথমিক সরকারী বিদ্যালয়, হায়দার পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, একতার বাজার কিন্ডার গার্ডেন বিদ্যালয় ভাঙ্গনের কবলে পড়ে বিধ্বস্থ হয়েছে। ও ইউনিয়নটির একমাত্র টেপাখড়িবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়টি বন্যার পানিতে তলিয়ে রয়েছে। টেপাখড়িবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক  ফাতেমা খাতুন জানান, বন্যায় ও ভাঙ্গনের কারনে বিদ্যালয়টির অস্তিত্ব প্রায় বিলিন হয়ে গেছে। তিনি জানান, গত একমাস যাবত পাঠদান দেয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের ভব্যিষৎ জীবন হয়ে পড়ছে অনিশ্চিত। জিঞ্জির পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল বাছেদ জানান, তার বিদ্যালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করে বিদ্যালয়টি কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া কিছু অংশ ভেঙ্গে যাওয়ায় প্রায় এক মাস যাবত ৩১৮ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান বন্ধ রয়েছে। চরখড়িবাড়ী মধ্য সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাদৎ হোসেন জানান, তিস্তার বন্যার শুরুতেই বন্যার পানি ও ভাঙ্গনে বিদ্যালয়ের দুটি ভবন দেবে গিয়ে পানিতে তলিয়ে যায়। গত দেড় মাস যাবত ৪৪৩ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান বন্ধ রয়েছে। চরখড়িবাড়ী বাবুপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, আমার বিদ্যালয়টি বন্যার কারনে কোমর পানিতে তলিয়ে রয়েছে। ভাঙ্গনের কারনে বিদ্যালয়ের বেশিরভাগ অংশ তিস্তা নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় ৪৪০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

এ ব্যাপারে ডিমলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, বন্যা ও ভাঙ্গনের কারনে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের ৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হাটু পানি আটকে রয়েছে। কিছু বিদ্যালয় ভাঙ্গনের কারনে তিস্তায় বিলিন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এ ব্যাপারে ডিমলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আহসান হাবীব জানান, এবারের বন্যায়  টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের একমাত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, শিক্ষা প্রতিষ্টান গুলো ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় বিকল্প উপায়ে কিভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো যায় সে বিষয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ